টুনির প্রথম স্কুলের দিন: ভয় কাটানোর শিশুতোষ গল্প

বাচ্চাদের গল্প · 2026-10-08

"কাল থেকে ওর স্কুল। রাত থেকেই বলছে, 'মা, আমি যাব না, আমার পেট ব্যথা।' কী করব বুঝতে পারছি না।" — তিন বছরের এক শিশুর মা

দ্রুত উত্তর: "টুনির প্রথম স্কুলের দিন" গল্পটি ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুর জন্য, যেখানে ভয় পাওয়াকে স্বাভাবিক বলা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সাহস পাওয়ার পথ দেখানো হয়েছে। স্কুল শুরুর আগের কয়েক দিন গল্পটি শোনালে শিশু নিজের অনুভূতির নাম খুঁজে পায়। সঙ্গে মায়ের ছোট একটি বিদায়-নিয়ম থাকলে সকালটা অনেক সহজ হয়।

পড়ার বয়স: ৩ থেকে ৬ বছর · গল্পের বিষয়: প্রথম স্কুলের দিনের ভয় ও সাহস

টুনি একটা ছোট্ট সবুজ পাখি।

আজ টুনির প্রথম স্কুলের দিন।

টুনির ঘুম ভাঙল, কিন্তু সে চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল। তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক ধুকপুক করছে।

"আজ যদি না যাই?" টুনি আস্তে বলল।


মা কাছে এসে বসলেন। টুনির পিঠে হাত রাখলেন।

"টুনিসোনা, নতুন জায়গায় যেতে একটু ভয় লাগে। আমারও লাগত। ভয় পাওয়া খারাপ কিছু নয়।"

টুনি চোখ খুলল। "সত্যি, মা?"

"সত্যি। আর আমি তো তোমাকে স্কুল পর্যন্ত নিয়ে যাব।"

টুনি একটু ভরসা পেল।


স্কুলের গেটের সামনে এসে টুনি থেমে গেল।

গাছটা বড়। দরজাটা বড়। ভেতর থেকে অনেক পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে।

টুনি মায়ের ডানার নিচে মুখ লুকাল।

"আমি ভেতরে যেতে চাই না।"

মা কিছু বললেন না। শুধু টুনিকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে রইলেন।

একটু পরে মা ফিসফিস করে বললেন, "আমরা একসঙ্গে তিনবার লম্বা নিঃশ্বাস নিই? এক, দুই, তিন।"

টুনি নিঃশ্বাস নিল। বুকের ধুকপুক একটু কমল।


গেটের ভেতরে এক শিক্ষিকা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। "তুমি নিশ্চয়ই টুনি! আমরা তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।"

টুনি কিছু বলল না। সে মায়ের হাত শক্ত করে ধরে রাখল।

ক্লাসঘরে অনেক ছোট ছোট পাখি। কেউ ব্লক সাজাচ্ছে, কেউ ছবি আঁকছে। একজন কাঁদছেও।

টুনি দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে রইল।


তখন একটা ছোট্ট হলুদ পাখি এগিয়ে এল। তার হাতে একটা লাল ব্লক।

"আমি মিঠু। তুমি কি আমার সঙ্গে টাওয়ার বানাবে?"

টুনি মায়ের দিকে তাকাল।

মা মাথা নেড়ে হাসলেন। "যাও, আমি এখানেই আছি।"

টুনি এক পা এগোল। তারপর আরেক পা।


টুনি আর মিঠু ব্লক সাজাল। একটা, দুটো, তিনটে... টাওয়ার উঁচু হয়ে গেল।

হঠাৎ টাওয়ারটা হুড়মুড় করে পড়ে গেল!

টুনি আর মিঠু একসঙ্গে হেসে উঠল।

"আবার বানাই!" বলল টুনি।

টুনি খেয়ালই করেনি, সে এতক্ষণ একবারও মায়ের দিকে তাকায়নি।


এবার মায়ের যাওয়ার সময় হলো।

টুনির গলাটা আবার ভারী হয়ে এল।

মা হাঁটু গেড়ে বসলেন। "টুনিসোনা, আমি এখন যাব। খেলা শেষ হলে, ছুটির ঘণ্টা বাজলে, আমি ঠিক এই গেটে দাঁড়িয়ে থাকব।"

টুনি মাথা নাড়ল। চোখে একটু পানি এল। তবু সে মাকে একটা ছোট্ট চুমু দিল।

মা হাত নাড়তে নাড়তে চলে গেলেন।

টুনি একটু কাঁদল। শিক্ষিকা পাশে বসে আস্তে পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। মিঠুও এসে বসল।


তারপর ছবি আঁকা হলো। গান হলো। ফল খাওয়া হলো।

ছুটির ঘণ্টা বাজল ঢং ঢং ঢং!

টুনি দৌড়ে গেটে গেল। মা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, কথা দেওয়ার মতোই।

"মা! আমি টাওয়ার বানিয়েছি! আর আমার বন্ধু হয়েছে, মিঠু!"

মা টুনিকে জড়িয়ে ধরলেন। "আমি জানতাম, তুমি পারবে।"

টুনি হেসে বলল, "কাল আবার আসব, মা। আজ একটু ভয় লেগেছিল, কিন্তু কালকে আরও কম লাগবে।"

আজকের শিক্ষা 🌟

নতুন জায়গায় ভয় লাগা স্বাভাবিক। একটু একটু করে এগোলে, আর পাশে কেউ থাকলে ভয় ছোট হয়ে যায়।

ভেবে বলো তো 🤔

১. স্কুলের গেটে এসে টুনির কেমন লেগেছিল?

২. মিঠু টুনিকে কী বলেছিল?

৩. তোমার কি কখনো নতুন কোথাও যেতে ভয় লেগেছে? তখন কী করেছিলে?

গল্প থেকে শিশু কী শিখতে পারে?

এই গল্পে ভয়কে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি, বরং ভয়ের পাশে বসে তাকে চেনা হয়েছে। এতে শিশু কয়েকটি জিনিস শেখে:

  • ভয় লাগা খারাপ কিছু নয়। মা নিজেও ভয় পেতেন, এই কথা শিশুকে একা না থাকার অনুভূতি দেয়।
  • লম্বা নিঃশ্বাস শরীরকে শান্ত করে। তিনবার নিঃশ্বাসের খেলা শিশু সহজেই শিখে নেয়।
  • নতুন বন্ধু আসে ছোট একটা প্রস্তাব থেকে। "আমার সঙ্গে খেলবে?" এই একটি বাক্যই যথেষ্ট।
  • মা কথা রাখেন। ছুটির পর গেটে দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি শিশুর ভরসার ভিত্তি।

কীভাবে গল্পটি শোনাবেন?

স্কুল শুরুর অন্তত তিন-চার দিন আগে থেকে গল্পটি পড়া শুরু করুন। প্রথম দিনের সকালেই শুনিয়ে দিলে আলাদা প্রভাব পড়ে না।

  1. টুনির ধুকপুক বুকের জায়গায় নিজের বুকে হাত রাখুন। শিশুকেও রাখতে বলুন। অনুভূতিটা শরীরে চেনা হয়ে যাবে।
  2. গেটের দৃশ্যে থামুন। জিজ্ঞেস করুন, "টুনির এখন কেমন লাগছে বলে মনে হয়?" উত্তরের জন্য অপেক্ষা করুন।
  3. তিনবার নিঃশ্বাসের অংশে একসঙ্গে অনুশীলন করুন। এটা পরে স্কুলের গেটেও কাজে লাগবে।
  4. শেষে শিশুকে বলতে দিন, "আমি স্কুলে গিয়ে কী খেলব?" ভবিষ্যৎ নিয়ে আনন্দের ছবি তৈরি হবে।

নমুনা সংলাপ

গল্পের পর, শিশু ভয়ের কথা বললে: আপনি: "স্কুলের কথা ভাবলে তোমার কেমন লাগে?" শিশু: "ভয় লাগে।" আপনি: "টুনিরও লেগেছিল। ভয় লাগলে তুমি আমাকে বলতে পারো, আমি শুনব।"

স্কুলের গেটে, বিদায়ের সময়: আপনি: "আমি এখন যাব। ছুটির ঘণ্টা বাজলে আমি এই গেটে থাকব। কথা দিলাম।"

শিশু কাঁদলে: আপনি: "মন খারাপ হচ্ছে, বুঝতে পারছি। শিক্ষিকা তোমার পাশে আছেন। ছুটির পর দেখা হবে।"

সাধারণ ভুল যা এড়াবেন

  • লুকিয়ে চলে যাওয়া। শিশু না দেখে মা হারিয়ে গেলে ভরসা ভাঙে। হাসিমুখে বলে বিদায় নিন।
  • বারবার ফিরে আসা। বিদায় দীর্ঘ হলে কান্না বাড়ে। ছোট, নিশ্চিত বিদায়ই ভালো।
  • "কাঁদে না, বড় হয়েছ" বলা। এতে শিশু ভাবে ভয় পাওয়া লজ্জার। আগে অনুভূতি স্বীকার করুন।
  • স্কুল নিয়ে ভয় দেখানো। "দুষ্টুমি করলে স্কুলে দিয়ে দেব" ধরনের কথা স্কুলকে ভয়ের জায়গা বানায়।
  • নিজের দুশ্চিন্তা দেখানো। আপনার চোখে ভয় দেখলে শিশুও ভয় পায়। দুশ্চিন্তা থাকলে গেট পার হয়ে একটু সামলে নিন।

প্রথম দিকের কান্না নিয়ে আরও জানতে পড়ুন স্কুলে ছাড়ার সময় শিশুর কান্না: সেপারেশন অ্যাংজাইটি কমানোর উপায়। আর স্কুল ভর্তির আগের প্রস্তুতির জন্য দেখতে পারেন নার্সারি-কেজি স্কুলের ইন্টারভিউতে স্কুল কী দেখে।

বন্ধুত্ব নিয়ে আরও একটি গল্প পড়তে পারেন টুনির নতুন বন্ধু মেঘের দেশে, আর নতুন কিছু শুরুর সাহসের জন্য ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রথম স্কুলের দিনে শিশু কাঁদলে কী করব?

কান্না থামানোর তাড়া না করে আগে অনুভূতিটা স্বীকার করুন, যেমন "মন খারাপ লাগছে, বুঝতে পারছি।" তারপর হাসিমুখে ছোট বিদায় নিন এবং ছুটির পর কোথায় দেখা হবে তা মনে করিয়ে দিন। বেশিরভাগ শিশু মা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে আসে।

স্কুলের ভয় কাটাতে কত দিন লাগে?

প্রতিটি শিশু আলাদা। কেউ কয়েক দিনে মানিয়ে নেয়, কারও কয়েক সপ্তাহ লাগে। এটা স্বাভাবিক। ধৈর্য ধরুন, রোজ একই নিয়মে বিদায় দিন, আর ছোট ছোট অগ্রগতি যেমন "আজ কম কেঁদেছ" লক্ষ করে প্রশংসা করুন।

স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে কীভাবে প্রস্তুত করব?

আগে থেকে স্কুল ঘুরিয়ে দেখান, গল্প পড়ুন, আর স্কুলের সময় অনুযায়ী ঘুম ও খাওয়ার রুটিন ঠিক করুন। শিশুকে নিজের ব্যাগ ও পানির বোতল গোছানোর কাজে যুক্ত করলে সে স্কুলকে নিজের বিষয় বলে ভাবতে শুরু করে।

শিশু রোজ সকালে পেট ব্যথার কথা বললে কী করব?

অনেক শিশু ভয় বা দুশ্চিন্তা শরীরের ব্যথা হিসেবে বলে। তাকে বিশ্বাস করুন এবং শান্তভাবে ভয়ের কথা জিজ্ঞেস করুন। ব্যথা বেশি দিন চললে বা অন্য উপসর্গ থাকলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, আর স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গেও কথা বলুন।


মিস পিয়ার মূল কথা: 🌼 "প্রথম স্কুলের দিনে ভয় লাগাটাই স্বাভাবিক, আর আপনার ধৈর্য ও হাসিমুখই সন্তানের সবচেয়ে বড় সাহস। ছোট বিদায়, নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি আর ছুটির পর উষ্ণ আলিঙ্গন, এই তিনটি জিনিস মনে রাখলেই সকালটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।"

আরও পড়ুন