বৃষ্টির দিনে একটা ছাতা: ভাগাভাগি ও দয়ার গল্প

বাচ্চাদের গল্প · 2026-10-05

পড়ার বয়স: ৪ থেকে ৮ বছর · গল্পের বিষয়: ভাগাভাগি ও দয়া

স্কুল ছুটি হলো।

আরহাম তার নতুন হলুদ ছাতাটা নিয়ে বের হলো।

আকাশে কালো মেঘ। গুড়ুম গুড়ুম!

তারপর নামলো ঝমঝম বৃষ্টি।


আরহাম ছাতাটা খুললো।

ছাতার নিচে আরহাম একদম শুকনো।

"আমার ছাতাটা সবচেয়ে সুন্দর!" আরহাম ভাবলো।


হাঁটতে হাঁটতে আরহাম একটা শব্দ শুনলো।

"মিউ... মিউ..."

একটা গাছের নিচে বসে আছে ছোট্ট একটা সাদা বিড়ালছানা।

পুরো ভেজা। ঠান্ডায় কাঁপছে।


আরহাম একটু ভাবলো।

"আমি যদি ছাতাটা বিড়ালের দিকে ধরি, তাহলে আমার কাঁধ ভিজে যাবে।"

তারপর সে বিড়ালছানার কাঁপা কাঁপা চোখ দুটো দেখলো।

আরহাম আর ভাবলো না।

সে বসে পড়লো। ছাতাটা বিড়ালছানার মাথার উপর ধরলো।


একটু পর নুরাও এলো, তার গোলাপি ছাতা নিয়ে।

"আরহাম, তোমার কাঁধ তো ভিজে যাচ্ছে!"

"বিড়ালছানাটা ঠান্ডায় কাঁপছিল," আরহাম বললো।

নুরা হাসলো। সে তার গোলাপি ছাতাটা আরহামের মাথার উপর ধরলো।

এখন আরহাম শুকনো। বিড়ালছানাও শুকনো।

দুটো ছাতা, তিনজন বন্ধু!


একটু পর বৃষ্টি থামলো। আকাশে উঠলো রংধনু।

বিড়ালছানাটা আরহামের পায়ে মাথা ঘষলো।

"মিউ!" যেন বলছে, "ধন্যবাদ!"

আরহামের মনটা খুশিতে ভরে গেল।

সে বুঝলো, নিজের জিনিস ভাগ করলে আনন্দ কমে না, আরও বেড়ে যায়।

দ্রুত উত্তর: এই গল্পে আরহাম নিজের ছাতা দিয়ে ভিজে যাওয়া এক বিড়ালছানাকে বাঁচায়, আর নুরা এসে আরহামকেও ছাতার নিচে নেয়। গল্পটি ৪ থেকে ৮ বছরের শিশুকে দেখায়, ভাগাভাগি ও দয়া করলে আনন্দ কমে না, বরং বেড়ে যায়।

আজকের শিক্ষা 🌟

কেউ কষ্টে থাকলে আমরা তাকে সাহায্য করবো, নিজের জিনিস ভাগ করে নেবো। ভাগ করলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়।

ভেবে বলো তো 🤔

১. আরহামের ছাতার রং কী ছিল? নুরার ছাতার রং কী?

২. বিড়ালছানাটা কেন কাঁপছিল?

৩. তুমি আজ কার সাথে কী ভাগ করে নিতে পারো?

চলো করি 🌈

একটা রংধনু আঁকো। রংধনুতে কয়টা রং আছে, গুনে দেখো তো!

গল্পটি শিশুর সাথে কীভাবে পড়বেন

এই গল্পে সংলাপ কম, ছোট ছোট বাক্য, আর শব্দের মজা আছে: "গুড়ুম গুড়ুম", "ঝমঝম", "মিউ মিউ"। শিশুকে এই শব্দগুলো আপনার সাথে মিলিয়ে বলতে দিন। বর্ষার দিনে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে গল্প পড়লে গল্পটা আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

  • আরহাম যখন ভাবছিল, তখন থামুন: জিজ্ঞেস করুন, "তুমি হলে কী করতে? ছাতাটা দিতে, নাকি নিজের কাছেই রাখতে?" এখানে কোনো ভুল উত্তর নেই। শিশুর সৎ উত্তরটা শুনুন।
  • নুরার আসার অংশে: শিশুকে লক্ষ করতে বলুন, "নুরা কী করল? কেউ তাকে বলেনি, তবু সে কেন ছাতা ধরল?"
  • শেষে: "আরহামের মন খুশিতে ভরে গেল কেন?" এই প্রশ্নে শিশু নিজেই বুঝবে, ভালো কাজ করলে ভেতরটা কেমন লাগে।

ভাগাভাগি আর দয়ার আসল মানে

ছোট শিশুদের কাছে "ভাগ করো" কথাটা অনেক সময় একটা আদেশের মতো শোনায়। তারা ভাবে, আমার জিনিস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই গল্পে আরহামকে কেউ ছাতা দিতে বলেনি। সে নিজে দেখেছে, নিজে ভেবেছে, নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পার্থক্যটাই শিশুকে বোঝান।

ভাগাভাগি মানে শুধু খেলনা বা খাবার দেওয়া নয়। এর মধ্যে আছে:

  • জায়গা ভাগ করা: বন্ধুকে পাশে বসতে দেওয়া।
  • সময় ভাগ করা: ভাইবোনের কথা মন দিয়ে শোনা।
  • সাহায্য ভাগ করা: কেউ বই ফেলে দিলে তুলে দেওয়া।
  • দয়া দেখানো: পশুপাখির জন্য এক বাটি পানি রাখা।

শিশু যখন এই ছোট ছোট কাজ করে, প্রশংসা করার সময় ফলাফলের বদলে ভেতরের মনোভাবের কথা বলুন। "তুমি ভালো ছেলে" না বলে বলুন, "তুমি অন্যের কষ্ট বুঝতে পেরেছ, আমার খুব ভালো লাগল।"

বৃষ্টির দিনে ঘরে করার ৪টি কাজ

বর্ষাকালে বাইরে খেলা কঠিন, তাই গল্পের সাথে মিলিয়ে ঘরেই মজার সময় কাটাতে পারেন।

  1. ছাতা-নাটক: একটা ছাতা আর একটা নরম খেলনা নিয়ে গল্পটা অভিনয় করুন। শিশু আরহাম হবে, খেলনা হবে বিড়ালছানা।
  2. বৃষ্টির শব্দ শোনা: জানালার পাশে বসে চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির শব্দ শুনুন। কত রকম শব্দ শোনা যায়, গুনে দেখুন।
  3. রংধনু আঁকা: "চলো করি" অংশের রংধনুটা আঁকুন। রং গুনে দেখুন, প্রতিটি রঙের নাম বলুন।
  4. দয়ার বাক্স: একটা ছোট বাক্সে লিখে রাখুন, "আজ আমি কার জন্য কী করলাম?" দিনের শেষে একটা ছোট ভালো কাজের কথা শিশুকে বলতে বলুন।

নমুনা কথোপকথন

শিশু: আম্মু, আরহাম কেন নিজের ছাতা বিড়ালটাকে দিল? তার তো কাঁধ ভিজে গেল!

আপনি: ভালো প্রশ্ন। তোমার কী মনে হয়?

শিশু: বিড়ালটা শীতে কাঁপছিল।

আপনি: ঠিক বলেছ। আরহাম তার কষ্টটা বুঝতে পেরেছিল। তুমি কি কখনো কারো কষ্ট বুঝতে পেরেছ?

শিশু: হ্যাঁ, রিয়া যখন পড়ে গিয়েছিল, আমি ওকে তুলেছি।

আপনি: বাহ্‌, তুমিও আরহামের মতো করেছ। শুনে আমার খুব ভালো লাগল।

সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন

  • শিশুকে জোর করে জিনিস ভাগ করতে বাধ্য করবেন না। এতে ভাগাভাগি শাস্তির মতো লাগতে পারে।
  • ছাতা না দিলে "তুমি স্বার্থপর" বলবেন না। বরং পরের বার ভাবার সুযোগ দিন।
  • বাস্তবে রাস্তার অচেনা পশুকে ছুঁতে দেবেন না। গল্পে আরহাম ছাতা ধরেছে, কিন্তু বাস্তবে অজানা প্রাণী আঁচড় বা কামড় দিতে পারে। শিশুকে শেখান, কাছে না গিয়ে বড়কে জানাতে।
  • গল্পের শিক্ষা এক দিনে মুখস্থ করানোর চেষ্টা করবেন না। অল্প অল্প করে, দিনের পর দিন।

সাধারণ প্রশ্ন

কত বছর বয়সের শিশুর জন্য এই গল্পটি উপযুক্ত?

৪ থেকে ৮ বছর বয়সের শিশুর জন্য এটি ভালো। ছোট শিশু শব্দ আর ছবি উপভোগ করবে, একটু বড় শিশু আরহামের ভাবনাটা বুঝতে পারবে।

গল্পের শিক্ষা কী?

গল্পের মূল শিক্ষা হলো, কেউ কষ্টে থাকলে তাকে সাহায্য করা আর নিজের জিনিস ভাগ করে নেওয়া। ভাগ করলে আনন্দ কমে না, বরং বেড়ে যায়।

শিশু ভাগ করতে চায় না, তখন কী করব?

প্রথমে তার অনুভূতিটা মেনে নিন: "এটা তোমার প্রিয় জিনিস, তাই দিতে ইচ্ছা করছে না।" তারপর ছোট করে শুরু করুন, যেমন পালা করে খেলা। জোর না করে সময় দিন।

বিড়ালছানা দেখলে শিশুকে কী শেখাব?

শিশুকে বলুন, ছোট প্রাণীদের প্রতি দয়া রাখতে হয়, তবে অচেনা প্রাণীকে নিজে ধরতে নেই। কাছাকাছি কোনো বড় থাকলে তাঁকে জানাতে হবে।

মিস পিয়ার মূল কথা: 🌼 একটা ছোট ছাতা কখনো একজনের জন্য, কখনো তিনজনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। শিশুর মনে এই বিশ্বাসটা গেঁথে দিন: ভাগ করলে ভালোবাসা কমে না, বাড়ে।

আরও পড়ুন